বহুল জিজ্ঞাসিত প্রশ্নসমূহ

মূল্য সংযোজন কর আইন,১৯৯১ এর ধারা- ৪২ এর অধীন আপীলঃ

০১।আপীল অর্থ কি ?

উত্তরঃ যে কোন মূসক কর্মকর্তার প্রদত্ত কোন সিদ্ধান্ত বা আদেশে সংক্ষুদ্ধ কোন ব্যক্তি উক্ত সিদ্ধান্ত বা আদেশের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষের বা আদালতের নিকট উত্থাপনযোগ্য প্রতিকারের আবেদন আপীল হিসাবে চিহ্নিত [ধারা ৪২]।

০২। আপীল কর্তৃপক্ষ কে?

উত্তরঃ বাজেয়াপ্তকরণ ও অর্থদন্ড আরোপকরণ সম্পর্কিত মামলার নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে ধারা- ৪০- এর বিধানানুযায়ী আপীল কর্তৃপক্ষ নিম্নরূপে নির্দিষ্টকৃতঃ

(ক) কোন মূসক কর্মকর্তার (রাজস্ব কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনার, উপ-কমিশনার, যুগ্ম কমিশনার ও অতিরিক্ত কমিশনার) সিদ্ধান্ত বা আদেশের বিরুদ্ধে= কমিশনার (আপীল)।

(খ) কমিশনার (আপীল) বা তাঁর সমমর্যাদার যে কোন মূসক কর্মকর্তার প্রদত্ত সিদ্ধান্ত বা আদেশের বিরুদ্ধে= আপীলাত ট্রাইব্যুনাল; এবং

(গ) আপীলাত ট্রাইব্যুনাল- এর সিদ্ধান্ত বা আদেশের বিরুদ্ধে= বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ।

০৩। কোন কোন ক্ষেত্রে আপীল দায়েরযোগ্য নয়?

উত্তরঃ (ক) মূল্য সংযোজন কর আইন, ১৯৯১ এর ধারা- ৫৬ এর অধীন সরকারী পাওনা আদায়ের জন্য কোন আটক বা বিক্রয় আদেশের বিরুদ্ধে আপীল দায়ের করা যাবেনা।

(খ) দি কাস্টমস এ্যাক্ট, ১৯৬৯ এর ধারা ৮২ অথবা ৯৮ এর অধীন তদন্ত ও সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপীল করা যাবেনা।

০৪। বিভাগীয় কর্মকর্তা কর্তৃক বর্ধিত মূল্য নির্ধারণ সংক্রান্ত আদেশের বিরুদ্ধে আপীল কর্তৃপক্ষ কে?

উত্তরঃ বিধি- ৩(৭)- এর অধীনে বিভাগীয় কর্মকর্তা ঘোষিত মূল্য অপেক্ষা উচ্চতর মূল্যভিত্তি নিরূপণ করিলে সংশ্লিষ্ট নিবন্ধিত ব্যক্তি উক্তরূপ উচ্চতর মূল্য নিরূপণের তারিখ হইতে ত্রিশ কার্যদিবসের মধ্যে উক্ত নিরূপিত মূল্যভিত্তি পুনর্বিবেচনার নিমিত্ত সংশ্লিষ্ট কমিশনারের নিকট আবেদন দাখিল করিতে পারিবেন এবং আবেদন প্রাপ্তির তারিখ হইতে পনের কার্যদিবসের মধ্যে কমিশনার উক্ত আবেদনের ওপর সিদ্ধান্ত প্রদান করবেন।

০৫। আপীল দাখিলযোগ্য ব্যক্তি কে?

উত্তরঃ (ক) কোন মূসক কর্মকর্তার প্রদত্ত কোন আদেশ বা সিদ্ধান্ত অন্য কোন মূসক কর্মকর্তা কর্তৃক আইনানুগ বা যৌক্তিক বিবেচিত না হলে উক্ত আদেশের ব্যাপারে তাঁর প্রতিকার চাওয়ার অধিকার আইনে সংরক্ষিত। ধারা- ৪২(১) অনুযায়ী মূসক কর্মকর্তার প্রদত্ত যে কোন আদেশের বিরুদ্ধে নিম্নোক্ত যে কোন ব্যক্তি আপীল দাখিলযোগ্য ব্যক্তি বলে বিবেচিতঃ

(১) যে কোন মূসক কর্মকর্তা; এবং

(২) মূসক কর্মকর্তা ছাড়াও অন্য যে কোন ব্যক্তি।

(খ) দি কাস্টমস এ্যাক্ট, ১৯৬৯ এর ধারা ১৯৩ অনুযায়ী সংক্ষুদ্ধ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান।

০৬। আপীল দাখিলের সময়সীমা কি?

উত্তরঃ (ক) যে কোন পদমর্যাদায় কমিশনারের নিম্নের মূসক কর্মকর্তা প্রদত্ত সিদ্ধান্ত বা আদেশের বিরুদ্ধে উক্ত সিদ্ধান্ত বা আদেশ প্রদানের বা ক্ষেত্রমত, আদেশ জারীর ৯০ (নববই) দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট আপীল কর্তৃপক্ষের নিকট আপীল দাখিল করতে হবে। তবে কমিশনার (আপীল) তাঁর সন্তুষ্টি সাপেক্ষে যথেষ্ট কারণ বিদ্যমান থাকার যুক্তিতে উক্ত ৯০ (নব্বই) দিন মেয়াদের পরবর্তী অতিরিক্ত ৬০ (ষাট) দিনের মধ্যে আপীল দায়েরের অনুমতি দিতে পারবেন। এই সময় অতিক্রান্ত হলে আপীল দায়ের সময় দ্বারা বারিত হবে।

০৭। কমিশনার (আপীল)- এর নিকট দাখিলকৃত আপীল কিভাবে নিষ্পত্তিযোগ্য?

উত্তরঃ কমিশনার (আপীল)- এর নিকট কোন আপীল দায়ের করা হলে তিনি আপীলটি সম্পর্কে তাঁর বিবেচনায় প্রয়োজনীয় তদন্ত অনুষ্ঠান বা তথ্য সংগ্রহ করতে পারবেন এবং আপীলকারীকে শুনানীর যুক্তিসঙ্গত সুযোগদানপূর্বক যে সিদ্ধান্ত বা আদেশের বিরুদ্ধে আপীল করা হয়েছে উহা বহাল রাখতে বা উহাতে কোন পরিবর্তন করতে বা উহা বাতিল করতে বা তাঁর বিবেচনাসম্মত অন্য যে কোন সিদ্ধান্ত বা আদেশ প্রদান করতে পারবেন।

০৮। আপীল কর্তৃপক্ষ বাজেয়াপ্তি বা অর্থদন্ড আরোপে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কি?

উত্তরঃ মূল্য সংযোজন কর আইন, ১৯৯১ এর ধারা- ৪০ এবং দি কাস্টমস এ্যাক্ট, ১৯৬৯ এর ধারা- ১৭৯ এ ক্ষমতাপ্রাপ্ত (কমিশনার ব্যতিরেকে) কর্মকর্তাদের প্রদত্ত আদেশের বিরুদ্ধে কমিশনার (আপীল) মামলা নিষ্পত্তিকরনে ক্ষমতাপ্রাপ্ত।

০৯। কত সময়ের মধ্যে আপীল নিষ্পত্তিযোগ্য?

উত্তরঃ আপীল গ্রহণের তারিখ হতে ০১ (এক) বছরের মধ্যে আপীলকারী কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় শুনানীর সুযোগ প্রদানসহ আপীলটির উপর সিদ্ধান্ত প্রদান করতে হবে। উক্ত সময়ের মধ্যে কোন সিদ্ধান্ত প্রদানে ব্যর্থ হলে আপীলাত কর্তৃপক্ষ আপীলটি মঞ্জুর করেছেন বলে গণ্য হবে [ধারা- ৪২(৪)]।

১০। মূসক কর্তৃপক্ষের নিকট উপস্থিতির ক্ষেত্রে কে যোগ্য বলে বিবেচিত?

উত্তরঃ আপীলাত কর্তৃপক্ষ, বোর্ড বা সরকারের নিকট সংক্ষুদ্ধ ব্যক্তি ব্যক্তিগতভাবে হাজির হয়ে তাঁর বক্তব্য পেশ করার অধিকারী। তাছাড়াও উক্ত ব্যক্তি ইচ্ছা করলে কাস্টমস এ্যাক্ট এর Section 196k- এ বর্ণিত কোন ব্যক্তির মাধ্যমে বা চার্টার্ড এ্যাকাউন্টেন্ট- এর মাধ্যমে উপস্থিত হতে পারবেন এবং উক্ত section এর বিধানাবলী তাহার উপর এইরূপে প্রযোজ্য হইবে যেন উহা এই ধারার অধীন উপস্থিতির জন্য এই আইনের অধীন প্রণীত হইয়াছে। [ধারা- ৪৬]।

১১। দাবীকৃত কর বা আরোপিত অর্থদন্ড সম্পর্কিত আদেশের বিরুদ্ধে আপীল দাখিলে কি কি শর্তাদি পালনীয়?

উত্তরঃ (ক) কমিশনার আপীলের নিকট মূল্য সংযোজন কর দাবী বা অর্থদন্ড সম্পর্কিত বিষয়ে আপীলের ক্ষেত্রে দাবীকৃত করের ১০% বা দাবীকৃত কর না থাকলে আরোপিত অর্থদন্ডের ১০% সরকারী কোষাগারে জমা দেয়ার বিধান রয়েছে;

(খ) কমিশনার বা তাঁর সমমর্যাদার কোন কর কর্মকর্তার আদেশের বিরুদ্ধে আপীলাত ট্রাইব্যুনালে দাখিলযোগ্য আপীলের ক্ষেত্রে দাবীকৃত করের ১০% বা কর না থাকলে আরোপিত অর্থদন্ডের ১০% (দশ) শতাংশ।

১২। আপীলের ক্ষেত্রে দশ শতাংশ অর্থ কোন খাতে জমাযোগ্য?

উত্তরঃ আপীলের ক্ষেত্রে জমাযোগ্য অর্থ সরকারী ট্রেজারীতে জমা দেয়ার বিধান রয়েছে। চলতি হিসাবে জমাকৃত অর্থ ট্রেজারীতে জমাকৃত বিধায় তা আপীল দাখিলে বিবেচনাযোগ্য। মূসক, সম্পূরক শুল্ক ও টার্ণওভার করের দাবীনামার বিপরীতে আপীল দায়েরের ক্ষেত্রে উক্ত শুল্ক ও করাদি জমা প্রদানের খাতেই দশ শতাংশ অর্থ জমাযোগ্য।

১৩। কমিশনার (আপীল)- এর নিকট আপীল আবেদন করতে হলে কত টাকার কোর্ট ফি দিতে হয়?

উত্তরঃ কমিশনার (আপীল)- এর নিকট আপীল আবেদন করতে হলে মোট ২১২/- (দুইশত বারো) টাকার কোর্ট ফি দিতে হয়। যেমনঃ আপীল আবেদনে ২০০/- (দুইশত) টাকার কোর্ট ফি এবং যে আদেশ/দাবীনামার বিরুদ্ধে আপীল আবেদন করা হবে সেই আদেশ/দাবীনামায় ১২/- (বারো) টাকার কোর্ট ফি সংযু্ক্ত করতে হবে।

১৪। আপীল আবেদনের সাথে কি কি ডকুমেন্টস এবং মোট কত সেট আপীল আবেদন জমা দিতে হয়?

উত্তরঃ আপীলকারী আপীল আবেদনের সাথে ট্রেজারী চালানের কপি, জারীকৃত আদেশ/দাবীনামা ও আপীলের পক্ষে অন্যান্য দলিলাদিসহ মোট ০৩ (তিন) সেট আপীল আবেদন নিয়ে আসবেন। তন্মধ্যে ০১ (এক) সেট আপীলকারী রিসিভ/গ্রহণ করে নিবেন এবং ০২ (দুই) সেট জমা দিবেন।

The Customs Act, 1969 এর অধীন আপীল ও রিভিশন

ধারা১৯৩।। কমিশনার (আপীল) এর নিকট আপীল

(১) পদমর্যাদায় কমিশনার অব কাস্টমস এর নিম্নের কোন কর্মকর্তা কর্তৃক, ধারা ৮২ অথবা ধারা ৯৮ এর অধীন প্রদত্ত সিদ্ধান্ত অথবা আদেশ ব্যতীত, এই আইনের অধীন প্রদত্ত কোন সিদ্ধান্ত অথবা আদেশ দ্বারা কোন ব্যক্তি সংক্ষুদ্ধ হলে তিনি উক্ত সিদ্ধান্ত অথবা আদেশ তাকে অবহিত করার তারিখ হতে তিন মাসের মধ্যে কমিশনার (আপীল) এর নিকট আপীল করতে পারবেনঃ তবে শর্ত থাকে যে, কমিশনার (আপীল) যদি এই মর্মে সন্তুষ্ট হন যে, আপীলকারী উপরিউক্ত তিন মাস মেয়াদের মধ্যে আপীল দায়ের করা হতে যথেষ্ট কারণে বাধাপ্রাপ্ত হয়েছেন, তাহলে তিনি পরবর্তী দুইমাস মেয়াদের মধ্যে উহা দায়ের করার অনুমতি প্রদান করতে পারবেন।

(২) এই ধারার অধীন প্রত্যেক আপীল এতদবিষয়ে বিধিমালা দ্বারা যেইরূপ নির্ধারিত হয় সেইরূপ ফরমে এবং সেইরূপ পদ্ধতিতে প্রতিপাদন করতে হবে।

ধারা১৯৩এ।। আপীলের পদ্ধতি

(১) আপীলকারী শুনানীর ইচছা ব্যক্ত করলে কমিশনার (আপীল) তাঁকে শুনানীর সুযোগ প্রদান করবেন।

(২) কোন আপীলের শুনানীতে কমিশনার (আপীল) আপীলের হেতুবাদসমূহে উল্লেখ করা হয় নাই এমন কোন হেতুবাদ আপীলকারীকে উল্লেখ করার অনুমতি দিতে পারবেন, যদি তিনি এই মর্মে সন্তুষ্ট হন যে উক্ত হেতুবাদ আপীলের হেতুবাদসমূহ হতে বাদ যাওয়া ইচ্ছাকৃত অথবা অযৌক্তিক ছিল না।

(৩) কমিশনার (আপীল) যেরূপ প্রয়োজন হতে পারে সেইরূপ অধিকতর তদন্ত করে যে সিদ্ধান্ত অথবা আদেশের বিরুদ্ধে আপীল করা হয়েছে তা বহাল রেখে, পরিবর্তন করে অথবা বাতিল করে যেইরূপ উপযুক্ত বিবেচনা করেন ইহার উপর সেইরূপ আদেশ প্রদান করতে পারবেনঃ তবে শর্ত থাকে যে, অর্থদন্ড অথবা বাজেয়াপ্তকরণের পরিবর্তে জরিমানা বৃদ্ধি করে অথবা অধিকতর মূল্যের পণ্য বাজেয়াপ্ত করে অথবা ফেরত প্রদানের অর্থ হ্রাস করে, প্রস্তাবিত আদেশের বিরুদ্ধে আপীলকারীকে কারণ দর্শানোর যুক্তিসঙ্গত সুযোগ না দিয়ে, কোন আদেশ প্রদান করা যাবেনা আরোও শর্ত থাকে যে, যে ক্ষেত্রে কমিশনার (আপীল) এই অভিমত পোষণ করেন যে কোন শুল্ক আরোপ করা হয় নাই অথবা কম আরোপ করা হয়েছে অথবা ভুলবশতঃ ফেরত প্রদান করা হয়েছে সেইক্ষেত্রে আপীলকারীকে প্রস্তাবিত আদেশের বিরুদ্ধে ধারা- ১৬৮ এ নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে কারণদর্শানোর নোটিশ না দিয়ে অনারোপিত, কম আরোপিত অথবা ভুলবশতঃ ফেরত প্রদত্ত কোন শুল্ক পরিশোধ বাধ্য করে কোন আদেশ প্রদান করা যাবে না।

(৪) কমিশনার (আপীল) এর আপীল নিষ্পত্তির আদেশ লিখিতে হবে এবং তাতে বিচার্য বিষয়গুলো, উহার উপর সিদ্ধান্ত এবং সিদ্ধান্তের জন্য যুক্তিসমূহ লিপিবদ্ধ থাকবে।

(৫) আপীল নিষ্পত্তির পর কমিশনার (আপীল) তৎকর্তৃক প্রদত্ত আদেশ আপীলকারী, ন্যায়-নির্ণয়ন কর্তৃপক্ষ এবং কমিশনার অব কাস্টমসের নিকট প্রেরণ করবেন।

ধারা১৯৩বি।। বোর্ড কর্তৃক কোন ভুল ইত্যাদি সংশোধনের ক্ষমতা

  1. বোর্ড এই আইন অথবা ইহার অধীন প্রণীত বিধিমালার কোন বিধান অনুযায়ী প্রদত্ত কোন আদেশের নথিপত্র হতে দৃশ্যত প্রতীয়মান কোন ভুল অথবা অশুদ্ধতা উক্ত আদেশ প্রদানের এক বছরের মধ্যে স্বতঃপ্রবৃত্ত হয়ে অথবা কোন ব্যক্তির আবেদনক্রমে সংশোধন করতে পারবেঃ তবে শর্ত থাকে যে, অর্থদন্ড অথবা জরিমানা বৃদ্ধি করতে অথবা অধিকতর পরিমাণ শুল্ক প্রদানে বাধ্য করতে পারে এইরূপ কোন সংশোধন, উক্ত সংশোধন দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এমন ব্যক্তিকে ব্যক্তিগতভাবে অথবা তাঁর নিকট হতে যথাযথভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন কৌসুলি অথবা অন্য কোন ব্যক্তির মাধ্যমে শুনানীর সুযোগ প্রদান না করে, করা যাবে না।

ধারা১৯৪।। নিষ্পন্নাধীন আপীলের দাবীকৃত শুল্ক বা আরোপিত অর্থদন্ড জমা প্রদান

(১) কোন ব্যক্তি কাস্টমসের নিয়ন্ত্রণাধীনে নাই এমন পণ্যের ক্ষেত্রে দাবী সম্পর্কিত কোন সিদ্ধান্ত অথবা আদেশের বিরুদ্ধে অথবা এই আইনের অধীন আরোপিত কোন অর্থদন্ডের বিরুদ্ধে আপীল করার ইচ্ছা করলে তিনি আপীল দায়ের করার সময়ে অথবা আপীলাত কর্তৃপক্ষ তাঁকে অনুমতি প্রদান করলে আপীলটি বিবেচনার পূর্বে যে কোন পর্যায়ে দাবীকৃত শুল্ক অথবা আরোপিত অর্থদন্ড যথোপযুক্ত কর্মকর্তার নিকট জমা প্রদান করবেন। তবে শর্ত থাকে যে, উক্ত ব্যক্তি উপরিউক্ত অর্থদন্ডের সম্পূর্ণ পরিমাণ অর্থ জমা প্রদানের পরিবর্তে উহার ৫০% জমা প্রদান করতে এবং অবশিষ্ট ৫০% অর্থ পরিশোধের জন্য তফসিলি ব্যাংক হতে গ্যারান্টি দাখিল করতে পারবেন।

আরও শর্ত থাকে যে, যদি কোন বিশেষ ক্ষেত্রে আপীলাত কর্তৃপক্ষ এইরূপ অভিমত পোষণ করে যে, দাবীকৃত শুল্ক অথবা আরোপিত অর্থদন্ড জমা করন আপীলকারীর জন্য অযথা কষ্টের কারণ হবে তাহলে উহা বিনা শর্তে বা উহার বিবেচনায় যথোপযুক্ত শর্ত আরোপ সাপেক্ষে উক্ত জমা প্রদানের প্রয়োজনীয়তা হতে আপীলকারীকে অব্যাহতি দিতে পারবেন।

(২) যদি কোন আপীলের উপর এই সিদ্ধান্ত হয় যে উপরিউক্ত শুল্ক অথবা অর্থদন্ডের সম্পূর্ণ অথবা উহার যে কোন অংশ আরোপযোগ্য ছিল না, তাহলে যথোপযুক্ত কর্মকর্তা আপীলকারীকে উক্ত অর্থ অথবা, ক্ষেত্রমত, অংশ বিশেষ ফেরত প্রদান করবেন।

ধারা১৯৫।। বোর্ডের নথিপত্র, ইত্যাদি তলব এবং পরীক্ষা করার ক্ষমতা

(১) বোর্ড স্বতঃপ্রবৃত্ত হয়ে এই আইনের অধীন কোন কার্যধারার নথিপত্র, উহাতে বোর্ডের অধঃস্তন কোন কর্মকর্তা কর্তৃক প্রদত্ত সিদ্ধান্ত অথবা আদেশের বৈধতা অথবা ন্যায্যতা সম্পর্কে সন্তুষ্ট হওয়ার উদ্দেশ্যে, তলব এবং পরীক্ষা করতে পারবে এবং তৎসম্পর্কে বোর্ড যেরূপ বিবেচনা করে সেইরূপ আদেশ প্রদান করতে পারবেঃ

তবে শর্ত থাকে যে, অধিকতর মূল্যের পণ্য বাজেয়াপ্তকরণের কোন আদেশ অথবা বাজেয়াপ্তির পরিবর্তে জরিমানা বৃদ্ধির কোন আদেশ অথবা কোন অর্থদন্ড আরোপের অথবা বৃদ্ধির কোন আদেশ অথবা অনারোপিত অথবা কম আরোপিত কোন শুল্ক পরিশোধে বাধ্য করে কোন আদেশ, উহা দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন এইরূপ ব্যক্তিকে উহার বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর সুযোগ না দিয়ে এবং ব্যক্তিগতভাবে অথবা তাঁর নিকট হতে যথাযথভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন কৌঁসুলী অথবা অন্য কোন ব্যক্তির মাধ্যমে শুনানীর সুযোগ না দিয়ে, প্রদান করা যাবে না।

  1. কোন কাস্টমস কর্মকর্তার কোন সিদ্ধান্ত অথবা আদেশ সম্পর্কিত কার্যধারার নথিপত্র উক্ত সিদ্ধান্ত অথবা আদেশ প্রদানের দুই বছর অতিবাহিত হওয়ার পর উপধারা (১) এর অধীন তলব এবং পরীক্ষা করা যাবেনা।

আপীল সংশিষ্ট মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে মূল্য সংযোজন কর আইন, ১৯৯১ এবং The Customs Act, 1969 এর মধ্যে মৌলিক পার্থক্যঃ

 

ক্রমিক নং

বিষয়

The VAT Act,

1991

The Customs Act, 1969

১।

আপীলের সময়

৯০ দিন

০৩ মাস

২।

নিলাম বা ওয়্যারহাউজ

বিষয় অন্তর্ভূক্ত নাই

অন্তর্ভূক্ত আছে

৩।

অর্থ জমাদান

দাবীকৃত করের ১০% বা দাবীকৃত কর না থাকলে আরোপিত অর্থদন্ডের ১০% সরকারী কোষাগারে জমা দেয়ার বিধান রয়েছে।

১। দাবীকৃত শুল্ক অথবা আরোপিত অর্থদন্ড যথোপযুক্ত কর্মকর্তার নিকট জমা প্রদান করবেন

বা

২। অর্থদন্ডের সম্পূর্ণ পরিমাণ জমা প্রদানের পরিবর্তে উহার ৫০% জমা প্রদান করতে এবং অবশিষ্ট ৫০% অর্থ পরিশোধের জন্য তফশিলী ব্যাংক হতে গ্যারান্টি দাখিল করতে হবে

বা

৩। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে জমার প্রয়োজন নাই।